Monday, August 30, 2021
Sunday, August 29, 2021
Saturday, August 28, 2021
Friday, August 27, 2021
Tuesday, August 24, 2021
Saturday, August 21, 2021
Friday, August 6, 2021
জুমার দিনে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয় ও ফযিলত:
▬▬▬

▬▬▬
১) দুয়া করা:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لَا يُوجَدُ فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ
“জুমার দিনে ১২টি ঘণ্টা রয়েছে। এর মধ্যে এমন একটি ঘণ্টা রয়েছে যেখানে এমন কোন মুসলিম নাই যে, সে যদি তখন আল্লাহর নিকট কিছু চায় আল্লাহ তাকে দিবেন না। আর তোমরা আসরের পরে (মাগরিবের আগের) শেষ ঘণ্টায় সে সময়টা অনুসন্ধান করো।”
(সুনান আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ: জুমার দিন দুয়া কবুল হওয়ার সময় কোনটি? শাইখ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। )
উল্লেখ্য যে, অন্য একটি যঈফ বা দুর্বল হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত সময়টা হল:
حِينَ تُقَامُ الصَّلَاةُ إِلَى الِانْصِرَافِ مِنْهَا
“জুমার সালাতের একামত হওয়া থেকে নিয়ে শুরু করে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।” (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ। কিন্তু শাইখ আলবানী বলেছেন এটি ضعيف جدا খুব দুর্বল।)
অধিকাংশ সালাফের মত হল, তা আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত সময়টি। আল্লাহ ভালো জানেন।
▬▬▬▬▬▬▬
২) সূরা কাহাফ পাঠ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَن قَرَأَ سورةَ الكَهفِ يومَ الجُمُعةِ أضاءَ له من النورِ ما بَينَ الجُمُعتينِ
“যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আলোকময় হবে (অর্থাৎ সে হেদায়েতের আলোর উপর পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ)। (দেখুনঃ সহিহ তারগিব ওয়াত্ তারহিব, হাদিস নং- ৭৩৬, ইবনে হাজার আসকালানী এটিকে হাসান বলেছেন। তিনি আরও বলেন, এ হাদিসটি সূরা কাহাফ প্রসঙ্গে বর্ণিত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিস, {ফায়যুল কাদির ৬/১৯৮})
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (জুমার রাত) থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্য ডুবার পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় (এক বৈঠকে অথবা একাধিক বৈঠকে) সূরা কাহাফ পুরোটা পড়ে শেষ করতে হবে। তাহলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
▬▬▬▬▬▬▬
৩) অধিক পরিমানে দরূদ পাঠ:
আউস বিন আউস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَام ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ -أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ- قَالَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمْ السَّلام
“তোমাদের দিন সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (ক্বিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয় জুমার দিনে।
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলে, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কবরে গলে শেষ হওয়ার পরেও কিভাবে আপনার উপর দরুদ পেশ করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। ”
(আবু দাউদ,নাসাঈ,ইবনু মাজা প্রমুখের বরাতে সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব,মিশকাত আলবানী হা/১৩৬১)
▬▬▬

▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাঈল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
Thursday, August 5, 2021
প্রশ্ন : নারী ও পুরুষের সালাতে কি কোন পার্থক্য আছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।
-------------------------
উত্তর :
ঠিক মতানুযায়ী নারী-পুরুষের নামাযের পদ্ধতিগত কোন পার্থক্য নেই। যেমন, কিয়াম, কিরাআত, রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, সালাম ইত্যাদি।
কিন্তু কিছু বিষয়ের পার্থক্য হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তন্মধ্যে, আযান, একামত, জামাআতে নামায, মাসজিদে গমণ, জুমার নামায ইত্যদি কেবল পুরুষদের জন্য;মহিলাদের জন্য নয়। অনুরূপভাবে পর্দা, নামাযের ইমামতি, ইমামের ভুল সংশোধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
----------------------------
রাসূল (ছাঃ) এর সালাত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছিল একথা ভাববার কোন অবকাশ নেই। পুরুষ ও মহিলা সালাতের মধ্যে পদ্ধতিগত কোন পর্থক্য নেই। সতর বা পর্দার যে বিষয়টি মেয়েদের সালাতের বিষয়ে বিভিন্ন নামায শিক্ষা বইতে এসেছে তা মেয়েদের পূর্ণাঙ্গ পর্দার মধ্যে সালাত আদায়ের নির্দেশই যথেষ্ট। এতে নতুন করে যুক্তি পেশ করার প্রয়োজন নেই। আমাদের মধ্যে যঈফ ও জাল হাদীসের অনুকরণে সালাত চালু থাকার কারণে এবং বিভিন্ন মাযহাব পন্থীর গোড়ামীর কারণে বিভিন্ন নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে। এজন্য আমাদের সমাজের মহিলারা কিংবা পুরুষেরা মনে করে, তাদের সালাত আলাদা। কিন্তু বাস্তবে পুরুষ মহিলাদের সালাতের মধ্যে পদ্ধতিগত কোন পার্থক্য নেই এবং এ ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীসও বর্ণিত হয়নি
সালাত আদায় করার জন্য নারী পুরুষ কারোর জন্য স্বতন্ত্র নিয়ম করা হয়নি। জিবরাঈল (আঃ) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ক্রমে দুই দফায় রাসূল (সাঃ)-কে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নিয়ম পদ্ধতি ইমামতি করে বাস্তবভাবে শিখিয়ে গেছেন। এ সময় জিবরাঈল (আঃ) নারীদের সালাতের জন্য আলাদা কোন নিয়ম পদ্ধতির বর্ণনা দেন নাই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষের জন্য এ নমুনা শিখানো হয়েছে। আল্লাহর নিয়ম পদ্ধতিতে কখনও কোন পার্থক্য দেখা যাবে না।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আর আপনি আল্লাহর নিয়ম-রীতিতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবেন না।” [সূরা-আহযাব : আয়াত-৬২]
(নারী-পুরুষ উভয় জাতির) উম্মতকে সম্বোধন করে রাসূল(ছাঃ) বলেছেন,“তোমরা সেইরুপ সালাত আদায় কর, যেইরুপ আমাকে করতে দেখেছ”। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৯)। উল্লেখ্য হাদীসটি উম্মে দারদা(রাঃ)থেকে বর্ণিত আছে।তিনি একজন ফকীহাও ছিলেন।
আলাদাভাবে বলা হয়নি। সুতরাং যে আদেশ শরীয়ত পুরুষদেরকে করেছে, সে আদেশ নারীদেরকেও করেছে। এবং যে সাধারণ আদেশ মহিলাদের তাও পুরুষদের ক্ষেত্রে পালনীয়- যদি বিশেষ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার দলীল না থাকে। যেমন, “যারা সতী মহিলাদের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন স্বাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদের জন্য শাস্তি হল ৮০ কোড়া- ---। (কুরআন-২৪/৪)।
পরন্ত যদি কেউ কোন সৎ পুরুষকে অনুরুপ অপবাদ দেয়, তবে তার জন্য একই শাস্তি প্রযোজ্য।
সুতরাং মহিলারাও তাদের সালাতে পুরুষদের মতই হাত তুলবে। পিঠ লম্বা করে রুকু করবে, তাশাহুদেও সেইরুপ বসবে, যেরুপ পুরুষরা বসে।
মসজিদে নববীতে নারী পুরুষ সকলে রাসূল(ছাঃ) এর (ইমামতি) পিছনে একই নিয়মে সালাত ও জুম’আ আদায় করেছেন। (বুখারী, মিশকাত হা/৯৪৮, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০৯)।
উম্মে দারদা (রাঃ) তার সালাতে পুরুষের মতই বসতেন। আর তিনি একজন ফকীহা ছিলেন। (আত-তারীখুস স্বাগীর, বুখারী ১/৩৫৫ পৃঃ, ফাৎহুল বারী ২/৩৫৫)।
মহিলাদের জন্য পুরুষদের ন্যায় মুস্তাহাব আর তা হলো, ডান পা খাড়া করে রাখবে এবং বাম পা বিছিয়ে রাখবে। এটা ইমাম নাসাঈ, ইমাম আবূ হানীফা এবং ইমাম মালিক (রহঃ) এর উক্তি। (আইনী ৩য় খন্ড ১৬৫ পৃষ্ঠা)।
ইবরাহীম নাখয়ী (রঃ) বলেন, ‘সালাতে মহিলারা ঐরুপ করবে, যেরুপ পুরুষরা করে থাকে। (ইবনু আবী শাইবাহ, সিসান ১৮৯ পৃঃ)।
এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, সালাতের মধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলে একই নিয়মে আদায় করতে হবে। (মির’আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিকহুস সুন্নাহ ১/১০৯; নায়লুল আওত্বার ৩/১৯)।
মহিলারা পুরুষদের মত একই নিয়মে সালাত আদায় করবে।
(ইবনে আবি শাইবা ১/৭৫/২, সিফাতু সালাতুন্নবী ১৮৯ পৃঃ)।
আর মহিলাদের জড়োসড়ো হয়ে সিজদাহ করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস নেই।(সিযঃ ২৬৫২ নং)।
আলবানী বলেন,‘পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের পার্থক্য সম্পর্কে আমি একটিও সহীহ হাদীস জানি না। এটা ব্যক্তি রায় ও ইজতিহাদ মাত্র। (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৫০০ এর আলোচনা দ্রঃ)
বেগানা পুরুষ আশে পাশে থাকলে কির’আত পাঠের ক্ষেত্রে (জেহরী সলাতে) মহিলা সশব্দে কুরআন পড়বে না। তবে না থাকলে পড়তে হবে। (আল মারআতুল মুসলিমাহ ৩/৩০৪)।
(সুনানুল কুবরা হা/৫৫৬৩;আয়নুল মা‘বুদ ২খন্ড ২১২পৃঃ)।
(আবু দাউদ হা/৬৪১,তিরমিযী হা/৩৭৭)
(আবু দাউদ হা/৬৩৭,মিশকাত হা/৪৩৩১)।
বিভিন্ন সালাত শিক্ষা বইয়ে পুরুষ ও মহিলাদের সালাতের মাঝে অনেক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু দলীলও পেশ করেছেন। হাদীস বিদ্বানগনের বিশ্লেষন ও যাচাই বাছাই করলে দেখা যায় সে গুলো জাল ও যঈফ। পুরুষও মহিলার সালাতের পার্থেক্যের ব্যাপারে যে সমস্ত বর্ণনা গুলো পেশ করা হয় তার কয়েকটি নিম্নরুপঃ
হাদীসটি যঈফ। (সিলসিলা যইফাহ হা/২৬৫২)।
বশ্লেষণ ঃ উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে ইমাম বায়হাক্বী নিজেই বলেছেন, এই বিষয়ে দুইটি মারফূ’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু কোনটিই নির্ভরযোগ্য নয়। (বায়হাক্বী, মা’রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার হা/১০৫০)
আবূ দাউদ মিরাসালে এই মুরসাল বর্ণনাটি আছে তাও উক্ত সনদে ‘ইয়াযীদ বিন আবী হাবিব’ যঈফ রাবী। ‘মুরসাল’ বর্ণনা অগ্রহনযোগ্য । কারন যে সনদের শেষ ভাগে তাবেঈর পরের ব্যক্তি অর্থাৎ সাহাবীকে উহ্য রেখে তাবেঈ বলবেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এরুপ সনদের হাদীসকে মুরসাল বলা হয়। (এর সমর্থনে কোন মারফু অথবা মাওকুফ হাদীস না থাকলে এরুপ বর্ণনা গ্রহনযোগ্য নয়)। তার পরও বর্ণনার সনদটি যঈফ। অতএব বর্ণনাটি আমলের প্রশ্নই ওঠে না।
একজন তাবেঈ রাসূল (ছাঃ) এর সঙ্গে কোন সাহাবার সুত্র ছাড়া তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন।
(তাবেঈ তারাই, যারা রাসূল (ছাঃ) কে দেখেননি তবে সাহাবাদের থেকে হাদীস শিখেছেন এবং সহচর)।
বিশ্লেষনঃ উক্ত বর্ণনা যঈফ ইমাম বায়হাক্বী উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে নিজেই যঈফ বলেছেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন। (সুনানুল কুবরা হা/৩৩২৪ এর আলোচনা)।
মাওলানা আব্দুল মালেক বায়হাক্বী থেকে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু বর্ণনাটি যে যঈফ তা উল্লেখ করেননি। যঈফ বর্ণনা দ্বারা দ্বীনি আমলের মূল (বিধান) দলীল সাব্যস্ত হয় না।
ইমাম আহমাদের মাসায়েল গ্রন্থে ইবনে উমার থেকে নিজ স্ত্রীদের এক পায়ের উপর অন্য পা আড়াআড়ি করে বসার আদেশ সূচক যে বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে এই সনদের মধ্যে ‘আবদল্লাহ বিন উমরী ’নামক রাবী যঈফ।
তিনি আমাকে বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন তোমার দুই হাত কান বরাবর উঠাবে। আর মহিলা মুছল্লী তার হাত বুক বরাবর উঠাবে।
(ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/১৭৪৯৭; নবিজীর নামাজ, ৩৭৯ পৃষ্ঠা)।
বর্ণনাটি নিতান্তই যঈফ মূলতঃ এর সনদে মায়মুনাহ বিনতে হুজর এবং উম্মু ইয়াহইয়া বিনতে আব্দুল জ্জাব্বার নামে দুই জন অপরিচিত রাবী আছে। (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৫০০)।
নবিজীর নামাজ পৃষ্ঠা ৩৭৯-৩৮৮ তে উক্ত মর্মে সাহাবী ও তাবেঈর নামে আরো কতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবই মুনকার ও ভিত্তিহীন। সে গুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করার কোন প্রয়োজন নেই।(জাল হাদিসের কবলে রাসূলুলাহ(ছাঃ) এর ছালাত পৃ-২১৬)।
মেয়েদের সালাত ভিন্ন হওয়ার ব্যাপারে গোড়ামী পন্থীদের কোন সুনির্দিষ্ট সহীহ দলীল নেই। মেয়েদের জড়োসড়ো হয়ে দাড়ানো থেকে সিজদাহ পর্যন্ত সবকিছুর ব্যাপারেই ইমাম কুদুরী (র.) মাযহাবের মত প্রকাশ করতে যেয়ে যুক্তি দেখিয়েছেন এটা তাদের সতরের জন্য অধিক উপযোগী। (আল হেদায়া প্রথম খন্ড পৃঃ৮৫-৮৭)।
এছাড়া জাল হাদীস গুলোকে হাসান বলে ভিত্তিহীন কিছু কল্প কাহিনী ও কয়েকটি জাল যঈফ হাদীস সহ আমাদের দেশে মেডইন ইরাক,কুফা,পাকিস্থান,ভারত ইত্যাদি হাদীস পেশ করা হয়েছে বিভিন্ন নামাজ শিক্ষা বইতে এ সম্বন্ধে বিভিন্ন মন্তব্যও পাওয়া যায় যা আমলে অযোগ্য,সহীহ হাদীস বিরোধী
(নাসাঈ হা/ ৮৯৫ ইঃ ফাঃ)।
(মুসলিম, আবু দাউদ হা/৭৮৩)।
উত্তর প্রদানে ~~~
শাইখ আবদুল্লাহিল হাদী বিন আআবদুল জলীল
দাঈ,জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, ksa
সালাতুয যাওয়াল তথা সূর্য ঢলার সালাত:
যে নামটি অধিকাংশ মানুষের কাছে অপরিচিত!
▬▬▬▬◢◣▬▬▬▬
এ কথা অনস্বীকার্য যে, সালাতুয যাওয়াল তথা সূর্য ঢলার সালাত নামে কোন সালাতের অস্তিত্ব আছে এ বিষয়টি অধিকাংশ মানুষের কাছে অপরিচিত। অথচ
রাসূল সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ঠিক মাথা বরাবর থেকে পশ্চিম দিগন্তে একটু ঢলে গেলে নিয়মিতভাবে চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। এ সময় আসমানের দরজাগুলো খোলা হয় এবং বান্দাদের আমলগুলো উপরে উত্তোলন করা হয়।
হাদিসের কিতাবগুলোতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে আছে আর মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
নিম্নে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি হাদিস পেশ করা হল:
عَنْ أَبيِْ أَيُّوْبَ الْأَنْصَارِيْ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أُنَّ النَّبِيَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كاَنَ يُدْمِنُ أَرْبَعُ رَكْعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّكَ تُدْمِنُ هَذِهِ الأْرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ ؟ فَقَالَ إِنَّ أَبْوَابِ السَّمَاءِ تُفْتَحُ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَلاَ تُرَتِّجُ حَتَّى يُصَلِّى الظُّهْرَ فَأُحِبُّ أَنْ يَّصْعَدَ لِيْ فِيْ تِلْكَ السَّاعَةِ خَيْرٌ قُلْتُ : أَفِيْ كُلِّهِنَّ قِرَاءَةٌ ؟ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ : هَلْ فِيْهِنَّ تَسْلِيْمٌ فَاصِلٌ ؟ قَالَ لاَ
আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিনিয়ত সূর্য ঢলার সময় চার রাকআত নামায পড়তেন।
একদা আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি সূর্য ঢলার সময় এই চার রাকআত প্রতিনিয়তই পড়ছেন?’
তিনি বললেন: “সূর্য ঢলার সময় আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং যোহরের নামায না পড়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয় না। অতএব আমি পছন্দ করি যে, এই সময় আমার নেক আমল (আকাশে আল্লাহর নিকট) উত্তোলন করা হোক।”
আমি বললাম: এ সালাতের প্রত্যেক রাকআতেই কি কিরাআত আছে?’
তিনি বললেন: “হ্যাঁ।”
আমি বললাম: ‘তার মাঝে কি পৃথককারী সালাম আছে?’
তিনি বললেন: “না।” (শাইখ আলবানী রচিত মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়াহ, হা/২৪৯, তিনি এটিকে সহিহ বলেছেন)
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعاً بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ رواه التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়েব রা. হতে বর্ণিত, সূর্য (পশ্চিম দিগন্তে) ঢলে যাবার পর, যোহরের ফরযের পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রাকআত সালাত পড়তেন। আর বলতেন, “এটা এমন সময়, যখন আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তাই আমার পছন্দ যে, সে সময়েই আমার সৎকর্ম ঊর্ধ্বে উঠুক।” (তিরমিযী ৪৭৮, হাসান, সহিহুত তারগিব হা/ ৫৮৭)
عَن أَبِى أَيُّوبَ عَن النَّبِىِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ تُفْتَحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ
আবু আইয়ুব রা. হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যোহরের পূর্বে চার রাকআত-যার মাঝে কোন সালাম নেই-তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়।” (আবু দাউদ ১২৭০, ইবনে মাজাহ ১১৫৭, ইবনে খুযাইমা ১২১৪, সহীহুল জামে’ ৮৮৫নং)
أنهُ كان يُصلِّي أربعَ ركعاتٍ بعدَ الزوالِ لا يُسلِّمُ إلا في آخرِهنَّ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ঢলার পর চার রাকআত পড়তেন। এ ক্ষেত্রে তিনি চার রাকআত শেষ করার পূর্বে সালাম ফেরাতেন না।" [সিলসিলা সহিহাহ ৭/১১৯৭, শাইখ আলবানী বলেন, এর সনদ সহিহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী جيد (ভালো)। এছাড়াও তিনি তাখরীজু মিশকাতিল মাসাবিহ গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন। হা/১২২৬]
উপরোক্ত হাদিস সমূহ থেকে স্পষ্ট যে, এ চার রাকআত সালাতে দু রাকআত পড়ে সালাম ফেরানো যাবে না বরং চার রাকআত শেষ করে সালাম ফিরাতে হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أربعُ ركعاتٍ قبلَ الظهرِ يعْدِلْنَ بصلاةِ السَّحَرِ
"যোহরের পূর্বে চার রাকআত সালাত ভোররাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) সমতুল্য।" (সহিহুল জামে, হা/৮৮২)
এখন এই চার রাকআত কোন সালাত? এগুলো কি যোহরের পূর্বের চার রাকআত সুন্নতে রাতেবা (নিয়মিত সুন্নত) না কি তা স্বতন্ত্র সালাত? এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণের মাঝে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়। কতিপয় আলেম বলেন, এই চার রাকআত মূলত: যোহরের চার রাকআত সালাত আর কতিপয় বিদ্বানের মতে, এটি যোহরের পূর্বের চার রাকআত সুন্নত নয় বরং এটি স্বতন্ত্র সালাত।
নিম্নে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের কয়েকটি অভিমত তুলে ধরা হল:
قَدْ يُقَالُ إنّ هَذِهِ الْأَرْبَعَ لَمْ تَكُنْ سُنّةَ الظّهْرِ، بَلْ هِيَ صَلَاةٌ مُسْتَقِلّةٌ كَانَ يُصَلّيهَا بَعْدَ الزّوَالِ
“এটাও বলা যেতে পারে যে, এই চার রাকআত যোহরের সুন্নত নয় বরং তা আলাদা সালাত-যা তিনি যাওয়াল তথা সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে পশ্চিম দিগন্তে ঢলে যাওয়ার পর আদায় করতেন।” (যাদুল মাআদ)
এ ছাড়াও তিনি এটিকে স্বতন্ত্র আমল বলার পেছনে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, সকল প্রকার সুন্নত সালাত দু রাকআত দু রাকআত করে পড়া উত্তম। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى
“দিন ও রাতের নামায দুই দুই রাকাত।” (সূনান আবু দাউদ অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায) (كتاب الصلاة) হাদিস নম্বরঃ [1295] ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা প্রমূখ-সনদ সহীহ)
অর্থাৎ রাত ও দিনের সকল সালাত (ফরয ছাড়া) দু রাকআত করে পড়াই উত্তম। অথচ এখানে চার রাকআত পড়ার হাদিসগুলোতে স্পষ্টভাবে এসেছে যে, এই চার রাকআত পড়ার সময় কেবল শেষে একবারই সালাম ফেরাতে হবে। মাঝখানে দু রাকআত পড়ে সালাম ফেরানো যাবে না।
তাতে বুঝা যায, এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি আমল। তার কারণ হল, এটি দিনের মধ্যভাগ ও সূর্য পশ্চিম দিগন্তে ঢলার সময়। (যাদুল মাআদ থেকে ভাবার্থ)
هذه الأربع صلاة مستقلة كان يصليها بعد الزوال، وورد مستقل سببه انتصاف النهار وزوال الشمس، وسر هذا ـ والله تعالى أعلم ـ أن انتصاف النهار مقابل لانتصاف الليل، وأبواب السماء تفتح بعد زوال الشمس ويحصل النزول الإلهي بعد انتصاف الليل، فهما وقتا قرب ورحمة، هذا يفتح فيه أبواب السماء، وهذا ينزل فيه الرب تبارك وتعالى إلى سماء الدنيا. انتهى
“এই চার রাকআত স্বতন্ত্র সালাত যা তিনি সূর্য ঢলার পর পড়তেন। আর এই স্বতন্ত্র আমলটি করার পেছনে কারণ হল, এটি দিনের ঠিক মধ্যভাগ ও সূর্য ঢলার সময়। এর রহস্য হল-আল্লাহ ভালো জানেন- এটি দিনের মধ্যভাগ যার অবস্থান রাতের ঠিক মধ্যভাগের বিপরীতে। দিনের মধ্যভাগে সূর্য ঢলার পর আসমানের দরজা সমূহ খোলা হয় আর রাতের মধ্যভাগের পর মহান আল্লাহর অবতরণ ঘটে।
সুতরাং এ দুটি আল্লাহর নৈকট্য ও রহমতের সময়। দিনের মধ্যভাগে আসমানের দরজাগুলো উন্মুক্ত হয় আর রাতের মধ্যভাগে মহান রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন।” (যাদুল মাআদ)
هذه سنة الزوال، وهي غير سنة الظهر
”এটি যাওয়াল বা সূর্য ঢলার সুন্নত। এটি যোহরের সুন্নত থেকে ভিন্ন।” (মিরআতুল মাফাতীহ)
অবশ্য একদল আলেম বলেন যে, এই চার রাকআত যোহরের পূর্বের চার রাকআত; আলাদা কোনও সালাত নয়-যেমনটি মুনাবী রহ. পূর্বোক্ত সায়েব বিন ইয়াযিদের কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ মতের পক্ষে বায়যাবী রহ. এর অভিমত উল্লেখ করেছেন।
যাহোক, পূর্বোক্ত হাদিস সমূহের পর্যালোচনা ও বিজ্ঞ আলেমের মতামত ও ব্যাখ্যার আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, এই চার রাকআত স্বতন্ত্র সালাত (যাওয়ালের সালাত) যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত পড়তেন। কারণ, তিনি চাইতেন, এ সময় যেহেতু আসমানের দরজা হয় সেহেতু এ সময় আল্লাহর নিকট তাঁর নেক আমল উত্থাপিত হোক। অর্থাৎ আল্লাহর নিকট এই আমলটি দ্রুত কবুলের আশা করা যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও এই আমলটি করার তাওফিক দান করুন। আমীন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◢◣▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
প্রশ্ন: সেজদায়ে শোকর কখন কিভাবে দিতে হয়?
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬▬
উত্তর:
যে কোন সুসংবাদ বা দু:সংবাদ থেকে মুক্তির খবর পাওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি সেজদা দেয়াকেই সেজদায়ে শোকর বা শুকরিয়া আদায়ের সেজদা বলা হয়।
এর পদ্ধতি হল, যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় সাথে সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে এবং এতে সেজদার বিভিন্ন দুআ ও তাসবীহ পাঠ করবে (যেমন সুবহানা রাব্বিয়াআল আ’লা)।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
নারী-পুরুষ সকলের জানা জরুরি!
ওযু ও গোসলের পূর্বে শরীর থেকে যে সব বস্তু তুলে ফেলা আবশ্যক আর যে সব বস্তু তুলে ফেলা আবশ্যক নয়
▬▬▬▬◢◣▬▬▬▬
ওযুর ক্ষেত্রে ওযুর অঙ্গগুলো এবং ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে পুরো শরীর পরিপূর্ণভাবে পানি দ্বারা ভেজানো আবশ্যক। অন্যথায় পবিত্রতা অর্জিত হবে না।
বিশেষ করে ওযুর কোনও অঙ্গ সামান্যও শুকনা থেকে গেলে তার জন্য হাদিসে জাহান্নামের শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تَخَلَّفَ عَنَّا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا فَأَدْرَكَنَا، وَقَدْ أَرْهَقَتْنَا الصَّلاَةُ، وَنَحْنُ نَتَوَضًّأُ، فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا
‘‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোন এক সফরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের পেছনে পড়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের নিকট পৌঁছলেন। এদিকে আমরা (আসরের) সালাত আদায় করতে বিলম্ব করে ফেলেছিলাম। তাই (তা আদায় করার জন্য) আমরা ওযু করা শুরু করলাম।
এ সময় আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দ্বারা ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেন:
“সর্বনাশ! গোড়ালির নিম্নাংশগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুন রয়েছে।”
তিনি দু বা তিনবার এ কথা বললেন। (বুখারী পর্ব ৩: /৩ হা/ ৯৬, মুসলিম ২/৯ হাঃ ২৪১)
ব্যাখ্যা: যদি তাড়াহুড়া করে ওযু করার কারণে পায়ের গোড়ালির নিম্নাংশ (সাধারণত: মানুষ এ স্থানের ব্যাপারে অসেচতন থাকে) শুকনো থেকে যায় তাহলে উক্ত স্থানকে (উক্ত ব্যক্তিকে) জাহান্নামের আগুন দ্বারা শাস্তি প্রদান করা হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সচেতন হওয়ার তওফিক দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَجَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ حَتّى إِذَا كُنَّا بِمَاءٍ بِالطَّرِيقِ تَعَجَّلَ قَوْمٌ عِنْدَ الْعَصْرِ فَتَوَضَّئُوا وَهُمْ عِجَالٌ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِمْ وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوْحُ لَمْ يَمَسَّهَا الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মক্কা হতে মদিনায় ফিরে যাবার পথে একটি পানির কূপের কাছে পৌঁছলাম। আমাদের কেউ কেউ আসরের সলাতের সময় ওযু করতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে ওযু করলেন।
আমরা তাদের কাছে দেখি, তাদের পায়ের গোড়ালির নিম্নাংশগুলো চকচক করছে-সেখানে পানি পৌঁছেনি। এটা দেখে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “সর্বনাশ! গোড়ালির নিম্নাংশগুলোর জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে; তোমরা পরিপূর্ণভাবে ওযু কর।" [ সহীহ : মুসলিম ২৪১, বুখারী ৯৬।]
অথচ বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, আমরা ওযু-গোসলের ক্ষেত্রে অনেক সময় উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে থাকি-বিশেষ করে শীত মৌসুমে। ফলে এ ক্ষেত্রে শরীরের কিছু স্থান শুকনা থেকে যায়। অনেকে আবার অজ্ঞতা বশত: শরীরে এমন বস্তু লাগানো অবস্থায় ওযু-গোসল করে যাতে করে শরীরের সে স্থানগুলোতে ভালোভাবে পানি পৌঁছে না।
আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ওযুতে ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং গোসলে শরীরের কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে পবিত্রতা অর্জিত হবে না।
এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম একটি মূলনীতি জানা থাকা জরুরি-যা উল্লেখ করেছেন জগদ্বিখ্যাত আলেম ও শতাব্দির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রহ.। সেটি হল:
أن الإنسان إذا استعمل الدهن ( الكريم والزيت ) في أعضاء طهارته ، فإما أن يبقى الدهن جامدا له جرم، فحينئذ لابد أن يزيل ذلك قبل أن يطهر أعضاءه ، فإن بقي الدهن هكذا جرما ، فإنه يمنع وصول الماء إلى البشرة وحينئذ لا تصح الطهارة .
أما إذا كان الدهن ليس له جرم ، وإنما أثره باق على أعضاء الطهارة ، فإنه لا يضر ، ولكن في هذه الحالة يتأكد أن يمر الإنسان يده على العضو لأن العادة أن الدهن يتمايز معه الماء ، فربما لا يصيب جميع العضو الذي يطهره ) اهـ .
"فتاوى الطهارة" (ص 147)
“মানুষ যদি পবিত্রতা অর্জনের অঙ্গগুলোতে তৈলাক্ত বস্তু (তেল, ক্রিম) ব্যবহার করে তাহলে দেখতে হবে, যদি উক্ত তৈলাক্ত বস্তুটি জমাট বাধা ও আবরণ বিশিষ্ট হয় তাহলে পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে অবশ্যই তা দূর করতে হবে। যদি তৈলাক্ত বস্তুটি সেভাবেই জমাট বাধা অবস্থায় থেকে যায় তাহলে তা চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দিবে। এতে করে তখন পবিত্রতা শুদ্ধ হবে না।
কিন্তু যদি তৈলাক্ত বস্তুটির কোন আবরণ না থাকে কিন্তু পবিত্রতার অঙ্গগুলোর উপর সেগুলোর চিহ্ন অবশিষ্ট থেকে যায় তাহলে তাতে কোনও ক্ষতি নাই। কিন্তু এ অবস্থায় ঐ অঙ্গের উপর হাত ফিরিয়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সাধারণত: তৈলাক্ত বস্তু থেকে পানি আলাদা থাকে। সুতরাং হতে পারে, পবিত্রতার ক্ষেত্রে পুরো অঙ্গে পানি পৌঁছবে না।” (ফাতাওয়াত তাহারাহ, পৃষ্ঠা নং ১৭৪)
এ সব ক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জনের জন্য এগুলো অবশ্যই সাবান, শ্যাম্পু, ক্যামিক্যাল বা অন্য কোন উপায়ে তুলে ফেলতে হবে।
মোটকথা, ওযু শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযুর অঙ্-প্রতঙ্গগুলো এবং গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীরের সর্বস্থানে পানি পৌঁছানো আবশ্যক। অন্যথায় পবিত্রতা অর্জিত হবে না। আর পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাত এবং যে সকল ইবাদতের জন্য পবিত্রতা পূর্বশর্ত সেগুলো আল্লাহর নিকট গৃহীত হবে না।
সুতরাং যে সকল বস্তু চামড়া ভেজার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেগুলো ওযু বা গোসলের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু চেষ্টা করার পরও তা তুলতে সক্ষম না হলে ভিন্ন কথা। তখন সে নিরুপায় হিসেবে গণ্য হবে এবং ঐ অবস্থায়ই ওযু বা গোসল সম্পন্ন করে সালাত আদায় করবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জন করে তদনুযায়ী আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬▬◢◣▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
Subscribe to:
Comments (Atom)




