Wednesday, August 10, 2022

 

পরিচ্ছেদঃ ৫৯/৪. সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান।

59/3. بَابُ فِي النُّجُومِ

৫৯/৩. অধ্যায় : নক্ষত্ররাজি সম্পর্কে।

وَقَالَ قَتَادَةُ )وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيْحَ( (الملك : 5) خَلَقَ هَذِهِ النُّجُومَ لِثَلَاثٍ جَعَلَهَا زِيْنَةً لِلسَّمَاءِ وَرُجُومًا لِّلشَّيَاطِيْنِ وَعَلَامَاتٍ يُهْتَدَى بِهَا فَمَنْ تَأَوَّلَ فِيْهَا بِغَيْرِ ذَلِكَ أَخْطَأَ وَأَضَاعَ نَصِيْبَهُ وَتَكَلَّفَ مَا لَا عِلْمَ لَهُ بِهِ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ )هَشِيْمًا( (الكهف : 45) مُتَغَيِّرًا )وَالْأَبُّ( مَا يَأْكُلُ الأَنْعَامُ )وَالْأَنَامُ( الْخَلْقُ )بَرْزَخٌ( (المؤمنون : 100)
حَاجِبٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ )أَلْفٰفًا( (النباء : 16) : مُلْتَفَّةً )وَالْغُلْبُ( : الْمُلْتَفَّةُ )فِرٰشًا( (البقرة : 22) : مِهَادًا كَقَوْلِهِ )وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ( (البقرة : 36) )نَكِدًا( (الأعراف : 58) : قَلِيْلًا
কাতাদাহ (রহ.) বলেন, (আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ) আর আমি তো নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপ মালা দিয়ে শুশোভিত করেছি (মুল্কঃ ৫) [এ সম্পর্কে ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন] এ সব নক্ষত্ররাজি তিনটি উদ্দেশে সৃষ্টি করা হয়েছে। (১) এদেরকে আসমানের সৌন্দর্য করেছেন (২) শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের জন্য (৩) এবং পথ ও দিক নির্ণয়ের আলামত হিসেবে। অতএব যে ব্যক্তি এদের সম্পর্কে এছাড়া অন্য কোন ব্যাখ্যা দেয় সে ভুল করে, নিজ প্রাপ্য হারায় এবং সে এমন বিষয়ে কষ্ট করে যে বিষয়ে তার কোন জ্ঞান নেই।
আর ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, (هَشِيْمًا)-অর্থ পরিবর্তন (আল-কাহাফঃ ৪৫) আর (الْأَبُّ) অর্থ তৃণ যা চতুষ্পদ জন্তু ভক্ষণ করে, (الْأَنَامُ)-অর্থ মাখলুক (بَرْزَخٌ) অর্থ প্রতিবন্ধক (মু’মিনূনঃ ১০০)
আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, (أَلْفَافًا) অর্থ জড়ানো (নাবাঃ ১৬) আর (الْغُلْبُ) অর্থ ঘন ও সন্নিবেশিত বাগান। (فِرٰشًا) অর্থ বিছানা (বাক্বারাহঃ ২২)। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমাদের জন্য রয়েছে পৃথিবীতে অবস্থান স্থল- (বাক্বারাহঃ ৩৬)। (نَكِدًا)-অর্থ অল্প (আ’রাফঃ ৫৮)।
بِحُسْبَانٍ (الرحمن : 5)
উভয়েই (সূর্য ও চন্দ্র) সুনির্দিষ্ট কক্ষে বিচরণ করে।’’ (আর-রহমানঃ ৫)
قَالَ مُجَاهِدٌ : كَحُسْبَانِ الرَّحَى. وَقَالَ غَيْرُهُ : بِحِسَابٍ وَمَنَازِلَ لَا يَعْدُوَانِهَا. حُسْبَانٌ : جَمَاعَةُ حِسَابٍ، مِثْلُ شِهَابٍ وَشُهْبَانٍ. ضُحَاهَا : ضَوْءُهَا. أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ : لَا يَسْتُرُ ضَوْءُ أَحَدِهِمَا ضَوْءَ الآخَرِ وَلَا يَنْبَغِيْ لَهُمَا ذَلِكَ، سَابِقُ النَّهَارِ يَتَطَالَبَانِ حَثِيْثَيْنِ نَسْلَخُ، نُخْرِجُ أَحَدَهُمَا مِنْ الآخَرِ وَنُجْرِيْ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا. وَاهِيَةٌ : وَهْيُهَا تَشَقُّقُهَا. أَرْجَائِهَا : مَا لَمْ يَنْشَقَّ مِنْهَا فَهُمْ عَلَى حَافَتَيْهَا كَقَوْلِكَ : عَلَى أَرْجَاءِ الْبِئْرِ. أَغْطَشَ وَ جَنَّ : أَظْلَمَ وَقَالَ الْحَسَنُ : كُوِّرَتْ تُكَوَّرُ حَتَّى يَذْهَبَ ضَوْءُهَا. وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ جَمَعَ مِنْ دَابَّةٍ. اتَّسَقَ : اسْتَوَى. بُرُوْجًا : مَنَازِلَ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ. الْحَرُوْرُ بِالنَّهَارِ مَعَ الشَّمْسِ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : وَرُؤْبَةُ الْحَرُوْرُ بِاللَّيْلِ وَالسَّمُومُ بِالنَّهَارِ. يُقَالُ : يُوْلِجُ يُكَوِّرُ. وَلِيْجَةً : كُلُّ شَيْءٍ أَدْخَلْتَهُ فِيْ شَيْءٍ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, উভয়ের আবর্তন চাকার আবর্তনের অনুরূপ। আর অন্যেরা বলেন, উভয় এমন এক নির্দিষ্ট হিসাব ও স্থানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা তারা অর্থাৎ চন্দ্র-সূর্য লংঘন করতে পারে না। حُسْبَانٌ হল حِسَاب শব্দের বহুবচন, যেমন شِهَاب এর বহুবচন হল شُهْبَان- ضُحَاهَا এর অর্থ তার জ্যোতি। أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ চন্দ্র-সূর্যের একটির জ্যোতি অপরটির জ্যোতিকে ঢাকতে পারে না, আর তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। سَابِقُ النَّهَارِ রাত দিনকে দ্রুত অতিক্রম করে। উভয়ে দ্রুত অতিক্রম করতে চায়। نَسْلَخُ আমি উভয়ের একটিকে অপরটি হতে বের করে আনি আর তাদের প্রতিটি চালিত করা হয় وَاهِيَةٌ এবং وَهْيُهَا এর অর্থ তার বিদীর্ণ হওয়া। أَرْجَائِهَا তার সেই অংশ যা বিদীর্ণ হয়নি আর তারা তার উভয় পার্শ্বে থাকবে। যেমন তোমার উক্তি عَلَى أَرْجَاءِ الْبِئْرِ কূপের তীরে أَغْطَشَ وَ جَنَّ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, كُوِّرَتْ অর্থ লেপটিয়ে দেয়া হবে, যাতে তার জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর বলা হয়ে থাকে وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ এর অর্থ আর শপথ রজনীর এবং তার যে জীবজন্তু একত্রিত করল। اتَّسَقَ বরাবর হল। بُرُوْجًا চন্দ্র সূর্যের কক্ষ ও নির্ধারিত স্থান। الْحَرُوْرُ -গরম বাতাস যা দিনের বেলায় সূর্যের সঙ্গে প্রবাহিত হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحَرُوْرُ রাত্রি বেলার আর السَّمُومُ দিনের বেলার লু হাওয়া। বলা হয় يُوْلِجُ অর্থ প্রবিষ্ট করে বা করবে وَلِيْجَة অর্থ এমন প্রতিটি বস্তু যা তুমি অন্যটির মধ্যে ঢুকিয়েছ।
৩১৯৯. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাবার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সাজ্দাহয় পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজ্দা করবে কিন্তু তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়— এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ ’’আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।’’ (ইয়াসীন ৩৮) (৪৮০২, ৪৮০৩, ৭৪২৪, ৭৪৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
credit:hadithbd

 উস্তায মতিউর রাহমান আল মাদানী হাফিয্বাহুল্লাহ : এক নির্ভীক মুজাহিদের নাম!

শাইখ মতিউর রহমান মাদানী (হাফিযাহুমুল্লাহ) নাম ও জন্মঃ তিনি হলেন শাইখ মতিউর রহমান মাদানী( হাফিযাহুমুল্লাহু-তায়ালা)। বর্তমান যুগের বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমে দ্বীন এবং নির্ভীক বক্তা। তিনি কুরআন সুন্নাহের আলোকে সমাজে ইসলামের নামে প্রচলিত শিরক বিদআত, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দলিল ভিত্তিক জোরালো বক্তব্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ইসলামের প্রায় সকল গুরুত্বপুর্ন শাখায় তার বাংলা বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদায় ১০ ই জানুয়ারী ১৯৬৭ খৃষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম "আব্দুল হাকিম"। তিনি একজন ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ। শিক্ষাজীবনঃ ০১-তিনি তার মাধ্যমিক স্তর “ইসলাহুল মুসলিমীন” মাদ্রাসায় (ভাদু, মালদহ) সম্পন্ন করেন। ০২-অত:পর “জামিয়া সালাফিয়া” (বেনারস, উত্তর প্রদেশ) হতে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। ০৪-তিনি তার সন্মান পর্ব হাদিসের উপর করেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (Islamic University), মদিনা হতে। দাওয়াতি কার্যক্রমঃ তিনি শিক্ষক হিসেবে সাত বছর জামিয়াতুল ইমাম আল-বুখারী, কিষাণগঞ্জ, বিহারে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি ১৯৯৯ সালে সৌদিতে দাম্মাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে বাংলা ভাষার প্রধান ইসলামি দ্বাই হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় দাওয়াতী ক্ষেত্রে কর্মরত। অনুবাদ করেছেন ২০টি বই ।তারমধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ ০১-ইসলামী জীবন পদ্ধতি ০২-হাজ্জ, উমরাহ, মদিনা জিয়ারত ০৩-নবী(সাঃ) এর চরিত ০৪-ইসলাম মধ্যপন্থা ০৫-সংক্ষিপ্ত সহিহ আল বুখারী ০৬-ঝারফুক ও জাদুর চিকিৎসা ০৭-সুরক্ষিত দূর্গ ০৮-কোরআনের আলোকে জাদুর চিকিৎসা ০৯-আক্বিদাহ আল ওয়াস্বেতীয়া ১০-সালাত পরিত্যাগ কারীর বিধান। ১১-ঈদের সংক্ষিপ্ত মাসাইল প্রমুখ! বক্তা হিসেবে অবদানঃ বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষায় শিরক-বিদাতের বিরুদ্ধে সব থেকে জোরালো কন্ঠ। তিনি বর্তমান যুগের বাংলা ভাষাভাষী আলেমদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সমাজে ইসলামের নামে প্রচলিত শিরক বিদয়াত, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দলিল ভিত্তিক জোরালো বক্তব্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ইসলামের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তার বাংলা বক্তব্য পাওয়া যায়। যে অল্পসংখ্যক বাংলাভাষী সাহসী আলেম এসব শিরক/বিদাতের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে কুরআন সুন্নাহর অমীয়বানী প্রচার করেছেন বা করছেন, শায়খ মতিউর রহমান মাদানী তাদের মধ্যে অন্যতম। তার বক্তব্যের ৬০০ এরও অধিক সিডি/ভিসিডি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি দাম্মাম ইসলামিক সেন্টার সৌদি আরবের বাংলা বিভাগে কর্মরত আছেন। তার দারছে প্রায় তিনছ থেকে সাড়ে তিনশ ছাত্র উপস্থিত হোন। তার এসব ছাত্ররা দেশে-বিদেশে অনলাইনে অফলাইনে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ কোরআন সুন্নাহই ফিরে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ। তিনি নিম্নের বিষয়ে লেকচার প্রদান করে বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ট সমাজ সংস্কারক রুপে পরিচিত হয়েছেন! এছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার উস্তাদজী প্রশ্ন-উত্তর-পর্ব করে থাকেন তাই আপনাদের যত প্রশ্ন আছে কমেন্ট বক্সে ইনবক্সে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত আকারে পাঠাতে পারেন। Whatsapp 00966570890041 বিঃদ্রঃ সপ্তাহের নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ তাই আপনাদেরকে প্রশ্ন করার পরে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে উত্তর পাওয়ার জন্য। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পাবেন লিংকের এই পেইজে। https://www.facebook.com/Shaikh.Moti1/ এবং প্রতি রবিবার নিম্নোক্ত সময়ে ধারাবাহিক সাপ্তাহিক দারস অনুষ্ঠিত হয় । ❐ আলোচকঃ শাইখ মতিউর রহমান মাদানী ❐ বিষয়ঃ নাজাত প্রাপ্ত দলের আক্বীদাহ্।।পর্বঃ সমূহ প্রশ্নোত্তর পর্ব ⏰ Time Zones: IST (Kolkata Time): 11:30 PM Sunday Bangladesh Time: 12:00 AM Monday সম্মানিত শাইখ মতিউর রহমান মাদানী (দাঈ, দাম্মাম ইসলামী দাওয়া সেন্টার, সৌদি আরব) Zoom এর মাধ্যেমে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত থাকবেন ইনশাআল্লাহ। সরাসরি প্রশ্ন করতে অবশ্যই Zoom Cloud Meeting - এ অংশগ্রহণ করতে হবে। 🔴 বিঃদ্রঃ প্রোগ্রামটি এই পেইজ 👇 https://www.facebook.com/tawhiderdakny/ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে প্রতি রবিবার ইনশাআল্লাহ।তাই এই পেজ ফলো করে রাখতে পারেন নিউ আপডেট পাওয়ার জন্য । ভিডিওগুলো বেশি বেশি করে শেয়ার করুন, কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা।” [সহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৪,৬৮০৪; মিশকাত, হা/ ১৫৮; আবু দাউদ ,হা/ ৪৬০৯ ] ► ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, যদি তা এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছা করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৬১]

 

পরিচ্ছেদঃ ৫৩/১. মানুষের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করে দেয়া

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )لَا خَيْرَ فِيْ كَثِيْرٍ مِّنْ نَّجْوٰهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍم بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَّفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاةِ اللهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيْهِ أَجْرًا عَظِيْمًا( (النساء : 114) وَخُرُوْجِ الْإِمَامِ إِلَى الْمَوَاضِعِ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ بِأَصْحَابِهِ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ আছে যে দান-খয়রাত, সৎকার্য ও মানুষের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের নির্দেশ দেয় তার পরামর্শে.....শেষ পর্যন্ত- (সূরা আন-নিসা ১১৪)। মানুষের মধ্যে আপোস করিয়ে দেয়ার উদ্দেশে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ইমামের (ঘটনা) স্থানে যাওয়া।
২৬৯০. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমর ইবনু ‘আউফ গোত্রের কিছু লোকের মধ্যে সামান্য বিবাদ ছিল। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণের একটি জামা‘আত নিয়ে তাদের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করে দেয়ার জন্য সেখানে গেলেন। এদিকে সালাতের সময় হয়ে গেল। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে নাবাবীতে এসে পৌঁছেননি। বিলাল (রাঃ) আবু বাকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে সালাতেরও সময় হয়ে গেছে। আপনি কি সালাতে লোকদের ইমামত করবেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যদি ইচ্ছা কর।’ অতঃপর বিলাল (রাঃ) সালাতের ইকামত বললেন, আর আবু বাকর (রাঃ) এগিয়ে গেলেন। পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এলেন এবং কাতারগুলো অতিক্রম করে প্রথম কাতারে এসে দাঁড়ালেন। (তা দেখে) লোকেরা হাততালি দিতে শুরু করল এবং তা অধিক মাত্রায় দিতে লাগল। আবূ বকর (রাঃ) সালাত অবস্থায় কোন দিকে তাকাতেন না, কিন্তু (হাততালির কারণে) তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে হাতের ইশারায় আগের মত সালাত আদায় করে যেতে নির্দেশ দিলেন। আবু বাকর (রাঃ) তাঁর দু’হাত উপরে তুলে আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন। অতঃপর কিবলার দিকে মুখ রেখে পেছনে ফিরে এসে কাতারে সামিল হলেন। তখন নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগে বেড়ে লোকদের ইমামত করলেন এবং সালাত সমাপ্ত করে লোকদের দিকে ফিরে বললেন, ‘হে লোক সকল! সালাত অবস্থায় তোমাদের কিছু ঘটলে তোমরা হাত তালি দিতে শুরু কর। অথচ হাততালি দেয়া মেয়েদের কাজ। সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ্’ ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলে। কেননা, এটা শুনলে কেউ তার দিকে দৃষ্টিপাত না করে পারতো না।’ ‘হে আবূ বকর! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন সালাত আদায় করাতে তোমার কিসের বাধা ছিল?’ তিনি বললেন, ‘আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য শোভা পায় না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে ইমামত করা। (৬৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫০৮১)
[১] ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ পঞ্চম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ- জুন ১৯৯৯ সংস্করণের ক্রমিক নং অনুযায়ী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
credit : hadithbd

তাবলীগ জামাতে বের হওয়া । শাইখ মতিউর রহমান মাদানী